ই-পাসপোর্ট গাইড
অনলাইন আবেদন, ফি, বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট ও সংগ্রহ পর্যন্ত ই-পাসপোর্ট সাধারণত কীভাবে চলে, পেজ ও মেয়াদের কোন কোন অপশন আছে, এবং কী প্রস্তুত রাখবেন। বর্তমান ফি ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পোর্টালে দেখুন।
সর্বশেষ আপডেট: ২০২৬-০৯-২৪
সেবাটি কী এবং কার লাগে
ই-পাসপোর্ট হলো ইলেকট্রনিক চিপযুক্ত একটি বায়োমেট্রিক (Biometric) পাসপোর্ট, যাতে আবেদনকারীর পরিচয় ও প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষিত থাকে। এটি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও পরিচয় যাচাইয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট সেবা ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর (ডিআইপি) পরিচালনা করে।
getBangla একটি স্বাধীন তথ্যসাইট। এটি কোনো সরকারি দপ্তর নয়। আবেদন ও পেমেন্টের জন্য শুধু সরকারি পোর্টাল ব্যবহার করুন।
- যোগ্যতা
- কাগজপত্র
- অনলাইন আবেদন
- ফি প্রদান
- বায়োমেট্রিক / এনরোলমেন্ট
- স্ট্যাটাস
- সংগ্রহ
পেজ সংখ্যা ও মেয়াদের অপশন
ফরমে যে অপশন দেখা যেতে পারে
| বিষয় | সাধারণ অপশন | কী প্রভাব ফেলে |
|---|---|---|
| পেজ সংখ্যা | ৪৮ পৃষ্ঠা বা ৬৪ পৃষ্ঠা | মূল ব্যবহারিক পার্থক্য ভিসা ও স্ট্যাম্পের জন্য পাতার সংখ্যা। সব আবেদনকারী সব অপশন দেখেন না। |
| মেয়াদ | ৫ বছর, অথবা প্রযোজ্য প্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীর জন্য ১০ বছর | কোন মেয়াদ খুলবে তা আবেদনকারীর শ্রেণি ও বর্তমান সরকারি নিয়মের ওপর নির্ভর করে। |
| ডেলিভারি | নিয়মিত, এবং যেখানে চালু আছে দ্রুত সেবা | জরুরি বা দ্রুত ডেলিভারি সব কেন্দ্রে বা সব সময় উপলভ্য ধরে নেবেন না। |
| আবেদনের ধরন | প্রাপ্তবয়স্ক, অপ্রাপ্তবয়স্ক, নবায়ন বা পুনঃইস্যু | কোন সমন্বয় বাছা যাবে, তা বর্তমান নিয়ম ও আবেদনের ধরন অনুযায়ী পোর্টালে দেখা যায়। |
ফি পেজ সংখ্যা, মেয়াদ এবং ডেলিভারি/সেবার ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। আবেদন করার আগে সরকারি পোর্টালে বর্তমান ফি ও উপলভ্য অপশন দেখে নিন।
কী কী কাগজ প্রস্তুত রাখবেন
কোন পরিচয়পত্র লাগবে, তা আবেদনকারীর বয়স ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। নিচের ছক সাধারণ নির্দেশনা। কোনো ক্ষেত্রে অফিসিয়াল নির্দেশনা ভিন্ন হলে আবেদনের সময় সরকারি পোর্টাল যা চায়, সেটিই দিন।
পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিচয়পত্র
| আবেদনকারী | যে কাগজ প্রযোজ্য হতে পারে |
|---|---|
| ২০ বছর বা তার বেশি | প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) |
| ১৮ বছরের নিচে | জন্ম নিবন্ধন সনদ (BRC) |
| ১৮–২০ বছর | প্রযোজ্য সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী NID অথবা BRC |
| অপ্রাপ্তবয়স্কের NID না থাকলে | প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাবা বা মায়ের NID তথ্য |
এটি সব ব্যতিক্রমের জন্য চূড়ান্ত নিয়ম নয়। যে আবেদনে পোর্টাল যে কাগজ চায়, সেটি ব্যবহার করুন।
- প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্মার্ট এনআইডি প্রস্তুত রাখুন এবং কার্ডে যে তথ্য আছে, ফরমে সেভাবেই লিখুন।
- প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ (BRC) প্রস্তুত রাখুন এবং আবেদনের সময় পোর্টালে চাওয়া তথ্য অনুযায়ী তা ব্যবহার করুন।
- পুনঃইস্যু বা নবায়ন হলে পুরনো পাসপোর্ট নতুনটি হাতে না পাওয়া পর্যন্ত ফেলবেন না।
- ই-পাসপোর্ট আবেদনে সাধারণত আবেদনপত্রে ছবি সংযোজন বা সত্যায়নের প্রয়োজন হয় না। তবে নির্দিষ্ট বয়স বা বিশেষ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ছবি লাগতে পারে। আবেদন করার সময় সরকারি পোর্টালের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
- পোর্টাল পেশা সংক্রান্ত কোনো কাগজ চাইলে, সেই নির্দেশনায় যা বলা আছে তা দিন। নিজের মনে করে অতিরিক্ত কাগজ যোগ করবেন না।
আবেদন কীভাবে করবেন
- অফিসিয়াল ই-পাসপোর্ট পোর্টালে আবেদন শুরু — ই-পাসপোর্ট পোর্টালে আবেদন শুরু করুন। ঠিকানা ডিআইপির নিজস্ব সাইট বা সরকারি নোটিশ থেকে মিলিয়ে নিন। সার্চ বিজ্ঞাপন বা তৃতীয় পক্ষের পেজ থেকে লিংক ব্যবহার করবেন না।
- ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ — নাম, জন্মতারিখ ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য NID বা প্রযোজ্য জন্ম নিবন্ধনের তথ্য অনুযায়ী সঠিকভাবে পূরণ করুন। তথ্যের অমিল থাকলে আবেদন যাচাই বা প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত জটিলতা হতে পারে। এমন মোবাইল নম্বর দিন যা আপনার কাছে চালু থাকে।
- আবেদন ও সেবার অপশন নির্বাচন — পেজ সংখ্যা, মেয়াদ ও ডেলিভারির ধরন পোর্টালে আপনার আবেদনের জন্য যেগুলো খোলা, সেখান থেকে বাছুন। সব সমন্বয় সবার জন্য উপলভ্য নাও হতে পারে।
- ফি প্রদান — পোর্টালে দেখানো বর্তমান ফি, সেখানে উল্লেখ করা সরকারি মাধ্যমে দিন। পেমেন্টের রসিদ ও আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করুন।
- এনরোলমেন্ট বা বায়োমেট্রিকের জন্য অফিসে উপস্থিতি — নির্ধারিত দিনে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে, অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিদেশের বাংলাদেশ মিশনে যান। সেখানে সাধারণত আঙুলের ছাপ, ছবি ও স্বাক্ষরসহ বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়া হয়। এনরোলমেন্টের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
- আবেদন প্রক্রিয়ার স্ট্যাটাস দেখা — একই অফিসিয়াল পোর্টাল বা সেখানে থাকা স্ট্যাটাস সুবিধায় আবেদন কতদূর এগোচ্ছে তা দেখুন। এসএমএস বা পোর্টালের নোটিশ এলে তা উপেক্ষা করবেন না।
- পাসপোর্ট প্রস্তুত হলে নির্দেশনা অনুযায়ী সংগ্রহ — পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় ডেলিভারি স্লিপ এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশিত পরিচয়পত্র বা কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন। কোথা থেকে নেবেন, তা আবেদনের সঙ্গে পাওয়া নির্দেশনায় লেখা থাকে।
যে ভুলগুলো এড়াবেন
- তৃতীয় পক্ষের ফেসবুক পেজ বা অনানুষ্ঠানিক এজেন্টের মাধ্যমে আবেদন করা।
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্ম নিবন্ধন সনদের (BRC) তথ্যের সঙ্গে না মিলিয়ে ফরম পূরণ করা।
- ভুল মোবাইল নম্বর দেওয়া।
- আবেদন বা পেমেন্টের রসিদ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য না রাখা।
- নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা এনরোলমেন্টের নির্দেশনা না মানা।
- জরুরি বা দ্রুত ডেলিভারি সব কেন্দ্রে ও সব সময় পাওয়া যায় ধরে নেওয়া।
সরকারি নিয়ম, ফি ও প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা বদলাতে পারে। পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের বর্তমান নির্দেশনাই চূড়ান্ত।
অফিসিয়াল লিংক
সূত্র: ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর
সচরাচর জিজ্ঞাসা
পাসপোর্ট স্ট্যাটাস কোথায় দেখব?
আবেদনকারী অফিসিয়াল ই-পাসপোর্ট পোর্টাল বা সেখানে থাকা স্ট্যাটাস সুবিধা ব্যবহার করবেন। তৃতীয় পক্ষের পেজে স্ট্যাটাস দেখবেন না। শুরু করুন ই-পাসপোর্ট পোর্টাল থেকে।
৫ বছর বা ১০ বছরের ফি কত?
এখানে নির্দিষ্ট অঙ্ক দেওয়া হচ্ছে না। ফি পেজ সংখ্যা, মেয়াদ ও ডেলিভারির ধরন অনুযায়ী বদলাতে পারে। আবেদনের আগে সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালে বর্তমান ফি দেখে নিন।
NID ও পাসপোর্টে নামের বানান কিছুটা আলাদা হলে সমস্যা?
আবেদনের তথ্য প্রযোজ্য পরিচয়পত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দিন। নামের বানান বা অন্য তথ্যে গরমিল থাকলে আবেদনের আগে বা আবেদনের সময় পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তা মিলিয়ে নিন। নিজে থেকে আলাদা বানান লিখবেন না।
ই-পাসপোর্টে পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে কি?
২০২৫ সালে আনা সরকারি পরিবর্তনের পর, সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুতে—যেখানে আবেদনকারীর তথ্য সংশ্লিষ্ট সরকারি রেকর্ড থেকে যাচাই করা যায়—পুলিশ ভেরিফিকেশন আগের মতো বাধ্যতামূলক ধাপ নয়। কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই বা কাগজ লাগলে পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
৪৮ ও ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্টের পার্থক্য কী?
মূল ব্যবহারিক পার্থক্য ভিসা ও স্ট্যাম্পের জন্য পাতার সংখ্যা। কোনটি পাওয়া যাবে এবং ফি কত, তা বর্তমান অফিসিয়াল অপশনের ওপর নির্ভর করে। সবাই সব পাতার অপশন নাও পেতে পারেন।
ই-পাসপোর্ট কোথায় আবেদন করব?
শুধু অফিসিয়াল ই-পাসপোর্ট পোর্টালে আবেদন করুন। দপ্তরের তথ্য ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটেও আছে। এজেন্ট বা ফেসবুক পেজে আবেদন করবেন না।
পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে কী করবেন?
পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পুলিশের কাছে যে প্রক্রিয়া চালু আছে, সেটি অনুসরণ করুন। কী কাগজ লাগবে তা পরিস্থিতিভেদে বদলাতে পারে। বর্তমান নির্দেশনা সরকারি পোর্টাল বা পাসপোর্ট অফিস থেকে নিন। এই গাইডে হারানো পাসপোর্টের বিস্তারিত পদ্ধতি দেওয়া হয়নি।
ই-পাসপোর্টের আবেদন কি ঘরে বসে অনলাইনে করা যায়?
আবেদন ফরম অনলাইনে পূরণ ও ফি প্রদান করা যায়। তবে আঙুলের ছাপ, ছবি ও স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত দিনে পাসপোর্ট অফিসে বা প্রযোজ্য মিশনে উপস্থিত হতে হয়।
ই-পাসপোর্টের স্ট্যাটাস কীভাবে দেখব?
শুধু অফিসিয়াল ই-পাসপোর্ট পোর্টালে দেওয়া স্ট্যাটাস সুবিধা ব্যবহার করুন। আবেদনের নম্বর ও পেমেন্টের রসিদ সঙ্গে রাখুন। এসএমএস বা পোর্টালের নোটিশ উপেক্ষা করবেন না।