লোন ইএমআই ক্যালকুলেটর
মূলধন, বার্ষিক সুদ ও মেয়াদ থেকে মাসিক কিস্তি আন্দাজ করুন। প্রতি কিস্তিতে সুদ ও আসল কীভাবে ভাগ হয়, ছকে দেখা যায়। ব্যাংকের আসল ইএমআই আলাদা হতে পারে।
সর্বশেষ আপডেট: ২০২৬-০৯-১৪
প্রতিটি শব্দের অর্থ
- মূলধন (প্রিন্সিপাল)
- ডাউন পেমেন্ট বাদ দিয়ে যা ধার করছেন। ফ্ল্যাটের পুরো দাম নয়।
- সুদের হার
- ব্যাংক যে বার্ষিক হার বলেছে। মাসিক ইএমআইতে হার ÷ ১২।
- মেয়াদ
- কত বছর শোধ করবেন। মেয়াদ বাড়লে কিস্তি কমে, মোট সুদ বাড়ে।
- ইএমআই
- হার ও মেয়াদ অপরিবর্তিত থাকলে সমান মাসিক কিস্তি।
- মোট সুদ
- সব কিস্তি থেকে মূলধন বাদ।
- মোট পরিশোধ
- মূলধন + মোট সুদ — অন্য খরচ ছাড়া।
ইএমআই সূত্র
হ্রাসমান ব্যালেন্স
EMI = P × r × (1 + r)^n ÷ ((1 + r)^n − 1)
- P = মূলধন, r = বার্ষিক হার ÷ ১২ ÷ ১০০, n = বছর × ১২।
ছক কীভাবে পড়বেন
| কলাম | অর্থ |
|---|---|
| মাস | কিস্তির ক্রম নম্বর |
| পরিশোধ | সেই মাসের ইএমআই |
| সুদ | বাকি ব্যালেন্সের ওপর চার্জ |
| মূলধন | যে অংশ আসল ঋণ কমায় |
| ব্যালেন্স | সেই পরিশোধের পর যা বাকি |
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- মঞ্জুর হওয়া টাকা দিন — ডাউন পেমেন্ট বাদ।
- বার্ষিক হার দিন — ১১.৫% হলে ১১.৫ লিখুন, নিজে ভাগ করবেন না।
- মেয়াদ বদলে দেখুন — ৫, ১০, ১৫ বছরে কিস্তি ও মোট সুদের তফাত বোঝা যায়।
- ছক পড়ুন — প্রথম ১২ মাসে ব্যালেন্স কীভাবে কমে।
কাজ করা উদাহরণ
৫ বছরে ১১.৫% হারে ৳১৫ লাখ
পার্সোনাল বা গৃহ-সংস্কার লোন, ৳১৫,০০,০০০, বার্ষিক ১১.৫%, ৫ বছর (৬০ মাস)।
- মাসিক হার r = ১১.৫ ÷ ১২ ÷ ১০০ ≈ ০.০০৯৫৮৩
- n = ৬০
- ইএমআই ≈ ৳৩২,৯৭০ (আনুমানিক; পাতার লাইভ টুলে সঠিক মডেল অঙ্ক দেখাবে)
- মোট পরিশোধ ≈ ইএমআই × ৬০; সুদ = সেই মোট − ১৫,০০,০০০
উপরের লাইভ ফলাফল ব্যবহার করুন। প্রথম মাসের সুদ প্রায় ১৫ লাখের ১১.৫% ÷ ১২; বাকি অংশ মূলধন কমায়।
ব্যাংক আলাদা হিসাব করতে পারে
- ফ্ল্যাট রেটকে রিডিউসিং-ব্যালেন্স রেটের মতো হিসাব করা—দুটোর ইএমআই আলাদা হয়।
- প্রসেসিং ফি ও বীমা বাদ দিয়ে মূলধন হিসাব করা, যা ব্যাংক প্রথমেই কেটে নিতে পারে।
- আগে শোধের (প্রি-পেমেন্ট) চার্জ না জেনে মেয়াদের আগে ঋণ শেষ করার পরিকল্পনা করা।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
শুরুতে সুদ বেশি কেন?
সুদ বাকি আসলের ওপর। শুরুতে ব্যালেন্স সবচেয়ে বড়।
জমি বা ফ্ল্যাট লোনে ব্যবহার করা যায়?
ইএমআই আন্দাজে হ্যাঁ। জমির মাপের জন্য জমি ক্যালকুলেটর দেখুন। ব্যাংক নিজের শিট আলাদাভাবে চালাবে।