আয়কর রিটার্ন কীভাবে দিবেন: কে দিবেন, কবে ও কোন ধাপে
রিটার্ন মানে আগের এক বছরের আয়ের হিসাব সরকারকে জানানো। কর না লাগলেও অনেক ক্ষেত্রে রিটার্ন লাগে। এখানে ধাপ, কাগজ আর ভুলগুলো সাজানো আছে।
১. কে রিটার্ন দিবেন
আয় করমুক্ত সীমার ওপরে গেলে রিটার্ন দিতে হয়। আয় কম হলেও আইনে এমন কিছু ক্ষেত্র আছে যেখানে রিটার্ন বাধ্যতামূলক। সেই তালিকা ও সীমা প্রতি অর্থ আইনে বদলাতে পারে, তাই এনবিআর-এর সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।
টিন (করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর) না থাকলে আগে ই-টিন নিন। টিন নিলেই কর দিতে হবে এমন নয়, কিন্তু অনেক সেবায় টিন চাওয়া হয়।
২. কবে দিবেন
ব্যক্তির ক্ষেত্রে ৩০ জুনে শেষ হওয়া আয়বর্ষের রিটার্ন সাধারণত ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দিতে হয়েছে। এনবিআর কখনো সময় বাড়ায়, কখনো নয়। তাই তারিখ ধরে নিয়ে নিশ্চিন্ত না থেকে এনবিআর-এর সর্বশেষ নোটিশ দেখুন।
শেষ দিনে সাইটে ভিড় হয়। কয়েক দিন আগে শুরু করলে ভুল ঠিক করার সময় পাবেন।
৩. কী কাগজ গুছিয়ে রাখবেন
আয়ের ধরন অনুযায়ী কাগজ আলাদা। চাকরিজীবীর জন্য সাধারণ তালিকা:
- এনআইডি ও টিন (বা টিন সনদ)।
- বছরের বেতনের হিসাব বা অফিসের দেওয়া আয়ের বিবরণী।
- অফিস থেকে কাটা কর বা অগ্রিম করের প্রমাণ।
- ব্যাংক হিসাব, ঋণ ও সঞ্চয়ের তথ্য।
- আইনে যেখানে লাগে, সম্পদ ও দায়ের বিবরণী।
- বিনিয়োগ থাকলে তার সনদ বা চালান, কর রিবেটের জন্য।
৪. ই-রিটার্নের ধাপ
দাখিলের সরকারি ঠিকানা এনবিআর ই-রিটার্ন। সেখানে সাধারণত এই ধাপগুলো থাকে: টিন ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন, ফরম পূরণ, কর হিসাব মিলিয়ে দেখা, প্রয়োজনে কর পরিশোধ, তারপর জমা দিয়ে প্রাপ্তিস্বীকার রাখা।
প্রাপ্তিস্বীকার বা রসিদ ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন। পরে ব্যাংক, ভিসা বা সেবার জন্য লাগতে পারে।
৫. আগে করের আন্দাজ
রিটার্ন ফর্মে বসার আগে বার্ষিক করযোগ্য আয় ধরে আয়কর ক্যালকুলেটরে স্ল্যাব ধরে কর দেখে নিন। এতে ফর্মের সংখ্যা মিলল কি না বোঝা সহজ হয়। বেতনের প্যাকেজ থেকে শুরু করতে চাইলে বেতন ও আয়কর ক্যালকুলেটর আছে।
এই দুই টুল মডেল। চূড়ান্ত অঙ্ক রিটার্ন ও চলতি আইনে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
কর শূন্য হলেও কি রিটার্ন দিতে হয়?
কিছু ক্ষেত্রে হ্যাঁ। আয়ের পরিমাণ ছাড়াও আইনে যেসব ক্ষেত্রে রিটার্ন বাধ্যতামূলক, তার তালিকা এনবিআর-এর সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে দেখুন।
রিটার্ন দিতে কি টিন লাগে?
হ্যাঁ। টিন না থাকলে ই-টিন নিন, তারপর ই-রিটার্নে নিবন্ধন করুন।
রিটার্ন দিতে দেরি হলে কী হয়?
দেরিতে জমা দিলে আইনে জরিমানা বা সুদ প্রযোজ্য হতে পারে। প্রযোজ্য নিয়ম এনবিআর-এর সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে।