মৃত্যু নিবন্ধন সনদ
মৃত্যু নিবন্ধন বাংলাদেশের সরকারি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থার অংশ। রেকর্ড হয় সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের মাধ্যমে। বর্তমান সেবা চলে বিডিআরআইএস-এ, যা রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন-এর অধীন। অনলাইনে আবেদন শুরু হলেও পরের সব ধাপ একই ওয়েবসাইটে শেষ হয় না। getBangla মৃত্যু সনদ ইস্যু বা ছাপে না। জন্ম নিবন্ধনের আলাদা গাইড: জন্ম নিবন্ধন।
সর্বশেষ আপডেট: ২০২৬-০৯-২৪
সাধারণ পথ
- নিবন্ধন নম্বর ও তারিখ রাখুন — অফিসিয়াল মৃত্যু নিবন্ধন যাচাই ফরমে ১৭ সংখ্যার মৃত্যু নিবন্ধন নম্বর ও মৃত্যুর তারিখ দিতে হয়। এই ফরমে শুধু নাম দিয়ে খোঁজার ঘর নেই।
- বিডিআরআইএস সেবাব্যবস্থা, রেজিস্ট্রার জেনারেল কর্তৃপক্ষ — বিডিআরআইএস জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সেবাব্যবস্থা। আবেদন, সংশোধন, প্রতিলিপি ও যাচাই এখান থেকে শুরু হয়। orgbdr.gov.bd রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের ওয়েবসাইট—নোটিশ ও কর্তৃপক্ষের ঠিকানা, আরেকটি আবেদনপোর্টাল নয়। getBangla একটি স্বাধীন তথ্যসাইট। আবেদন সরকারি পোর্টালে করুন। ফি প্রযোজ্য হলে তা শুধু সেই পোর্টাল বা সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ে দিন।
- মৃত ব্যক্তির পরিচয় ও তথ্যদাতা — বর্তমান অনলাইন আবেদন মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে শুরু হয়। তারপর মৃত্যুর তারিখ, মৃত্যুস্থান ও তথ্যদাতার সম্পর্ক চাওয়া হয়। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তথ্যদাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর বা জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর লাগে। প্রতিটি ক্ষেত্রে এনআইডি বাধ্যতামূলক—এমনটি এই পাতায় বলা হচ্ছে না। নিবন্ধক সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন, ক্যান্টনমেন্ট বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। হাসপাতাল নিজেই নিবন্ধন কার্যালয় নয়। আইনে যে হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে, সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক তথ্য পাঠাতে পারেন; সনদ দেন সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক।
- উত্তরাধিকার ও ব্যাংকের জন্য সনদ রাখুন — প্রয়োজন অনুযায়ী উত্তরাধিকারের প্রশাসনিক কাজ, নামজারি, ব্যাংক বা বীমা দাবি এবং অন্যান্য সরকারি বা বেসরকারি কাজে মৃত্যু নিবন্ধন সনদ চাওয়া হতে পারে। প্রতিটি ব্যাংক, উত্তরাধিকার বা নামজারিতে একই কাগজ লাগে—এমন নিয়ম এখানে নেই।
তথ্যদাতা ও নিবন্ধন কার্যালয়
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪-এর ৮(২) ধারা, ২০১৩-এর সংশোধন অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির পুত্র বা কন্যা, অথবা অভিভাবক, অথবা নির্ধারিত ব্যক্তি মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে মৃত্যুর তথ্য নিবন্ধকের কাছে দেবেন। এই সময় পেরিয়ে গেলে ১৩ ধারায় নির্ধারিত পদ্ধতি ও ফি সাপেক্ষে পরে নিবন্ধনের কথা আছে। ফির অঙ্ক এই পাতায় লেখা নেই।
৯ ধারায় কিছু কর্মকর্তা নিবন্ধকের কাছে জন্ম বা মৃত্যুর তথ্য পাঠাতে পারেন। এর মধ্যে আছে যে সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক বা অনুরূপ প্রতিষ্ঠানে মৃত্যু হয়েছে, সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক; কারাগারের ক্ষেত্রে জেল কর্তৃপক্ষ; এবং জনসাধারণের স্থানে পড়ে থাকা পরিচয়হীন মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তথ্য পাঠানো আর নিবন্ধক হওয়া এক নয়। ৪ ধারায় নিবন্ধক সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, আর বিদেশে মৃত্যু হলে বাংলাদেশ মিশনের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
বর্তমান বিডিআরআইএস মৃত্যু নিবন্ধন ফরমে আবেদনকারী সম্পর্ক বাছেন। সেখানে পিতা, মাতা, স্বামী বা স্ত্রী, পুত্র, কন্যা ও অন্যান্য আছে। প্রতিলিপির আবেদনে সম্পর্কের আলাদা তালিকা দেখা যায়। যে ফরম ব্যবহার করছেন, সেই ফরমের ঘর এবং আইন ও বর্তমান নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
সনদ পরে কোথায় লাগে
- ব্যাংক, বীমা বা অন্যান্য উত্তরাধিকার বা দাবি সংক্রান্ত কাজে প্রয়োজন হতে পারে। কোন ডেস্ক চাইবে, তা সেই কাজের নিয়মের ওপর নির্ভর করে।
- মৃত্যু নিবন্ধন ও নামজারি আলাদা সরকারি কাজ। উত্তরাধিকারের নামজারিতে নিজস্ব আবেদন ও সহায়ক কাগজ লাগে, বর্তমান ভূমি সেবার নিয়ম অনুযায়ী। মৃত্যু সনদ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সহায়ক কাগজ হতে পারে। মৃত্যু নিবন্ধন হলেই নামজারি হয়ে যায় না। ভূমির রেকর্ড ভূমি পোর্টালে, বিডিআরআইএস-এ নয়।
- সনদে ছাপা নিবন্ধন নম্বরই বর্তমান যাচাই ফরমের ১৭ সংখ্যার মৃত্যু নিবন্ধন নম্বর। নম্বর না থাকলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ে জিজ্ঞেস করুন। পাবলিক যাচাই ফরমে নাম দিয়ে খোঁজা যায় না।
অফিসিয়াল লিংক
- বিডিআরআইএস — আবেদন, সংশোধন ও প্রতিলিপি
- মৃত্যু নিবন্ধন যাচাই — ১৭ সংখ্যার মৃত্যু নিবন্ধন নম্বর ও মৃত্যুর তারিখ
- রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন — কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট: নোটিশ ও অফিস, আবেদনফরম নয়
সূত্র: রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন (BDRIS)
সচরাচর জিজ্ঞাসা
শুধু নামে খোঁজা যায়?
না। অফিসিয়াল যাচাই ফরমে ১৭ সংখ্যার মৃত্যু নিবন্ধন নম্বর ও মৃত্যুর তারিখ দিতে হয়। শুধু নামে খোঁজার ঘর নেই।
জন্ম নিবন্ধনের সাইট কি এক?
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দুটোই সরকারি ব্যবস্থার অংশ এবং বিডিআরআইএস-এ চলে, রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের অধীন। আবেদনের ধাপ এক নয়। জন্ম নিবন্ধনের বর্ণনা জন্ম নিবন্ধন পাতায়।
এখান থেকে সনদ ছাপাবে?
না। getBangla সরকারি মৃত্যু সনদ ইস্যু বা ছাপে না। কপি বা প্রতিলিপি বর্তমান প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিডিআরআইএস বা সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয় থেকে নিতে হয়। সনদ যেন সঙ্গে সঙ্গে ডাউনলোড হয়, এমন কথা এই পাতায় নেই।
নামজারির আগে লাগে?
উত্তরাধিকারের নামজারিতে মৃত্যু নিবন্ধনের রেকর্ড গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক কাগজ হতে পারে। লাগবে কি না, তা সেই নামজারির ধরন ও ভূমি অফিসের বর্তমান নিয়মের ওপর নির্ভর করে। মৃত্যু নিবন্ধন নিজেই নামজারি শেষ করে না। ই-পর্চা / নামজারি দেখুন।
মৃত্যু নিবন্ধন করতে কী কী কাগজ লাগে?
পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। বর্তমান অনলাইন আবেদন মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে খোঁজে, তারপর মৃত্যুর বিবরণ, তথ্যদাতার সম্পর্ক এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিচয় নম্বর চায়। সংযুক্তি সেই আবেদনে যে ছবি ফাইল দেখায়, সেটি। এক তালিকা যেন সব মৃত্যুতে লাগে, তা এখানে দেওয়া হচ্ছে না।
মৃত্যু নিবন্ধন কে করতে পারেন?
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪-এর ৮(২) ধারায় মৃত ব্যক্তির পুত্র বা কন্যা, অথবা অভিভাবক, অথবা নির্ধারিত ব্যক্তি নিবন্ধককে তথ্য দেবেন। ৯ ধারায় আরও কিছু কর্মকর্তা, যেমন মৃত্যু যে হাসপাতালে হয়েছে সেখানকার চিকিৎসক, তথ্য পাঠাতে পারেন। বর্তমান বিডিআরআইএস ফরমে আবেদনকারী সম্পর্ক বাছেন। নিবন্ধক সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কার্যালয়, হাসপাতাল নয়।
মৃত্যু নিবন্ধনে ভুল থাকলে কীভাবে সংশোধন করব?
সংশোধন বিডিআরআইএস-এ আলাদা আবেদন: মৃত্যু তথ্য সংশোধন। শুরু হয় মৃত্যু নিবন্ধন নম্বর ও মৃত্যুর তারিখ দিয়ে। কোন কাগজ লাগবে, তা কী সংশোধন হচ্ছে এবং বর্তমান সরকারি নির্দেশনার ওপর নির্ভর করে।
মৃত্যুর পর কতদিনের মধ্যে নিবন্ধন করতে হয়?
আইনের ৮(২) ধারা, ২০১৩-এর সংশোধন অনুযায়ী, মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে তথ্য নিবন্ধকের কাছে দিতে হয়। সময় পেরিয়ে গেলে বিলম্বিত নিবন্ধনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া প্রযোজ্য। ফি বা প্রক্রিয়ার সময় এই পাতায় লেখা নেই।
পুরোনো মৃত্যু নিবন্ধন অনলাইনে না থাকলে কী করবেন?
পাবলিক যাচাই শুধু সেই রেকর্ড দেখে, যা সিস্টেমে আছে, এবং সেখানে ১৭ সংখ্যার নম্বর ও মৃত্যুর তারিখ লাগে। পুরোনো কাগজ সেখানে না নিলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ে জিজ্ঞেস করুন রেকর্ড বিডিআরআইএস-এ আছে কি না। প্রতিটি পুরোনো সনদ আবার নিবন্ধন করতে হবে—এমন কথা এই পাতায় নেই।
মৃত্যু নিবন্ধন নম্বর কোথায় পাব?
নিবন্ধক যে মৃত্যু নিবন্ধন সনদ বা রেকর্ড দিয়েছেন, সেখানে। বর্তমান যাচাই ফরমে বর্তমান ব্যবস্থার ১৭ সংখ্যার নম্বর চাওয়া হয়। নম্বর না থাকলে যে কার্যালয়ে রেকর্ড আছে, সেখানে জিজ্ঞেস করুন।
মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্য যাচাই কোথায় করব?
বিডিআরআইএসের অফিসিয়াল যাচাই পাতায়: মৃত্যু নিবন্ধন যাচাই। ১৭ সংখ্যার মৃত্যু নিবন্ধন নম্বর ও মৃত্যুর তারিখ দিন। লিংক বিডিআরআইএস থেকে নিন, অনানুষ্ঠানিক সাইট থেকে নয়।